
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)–তে পদোন্নতি, বদলি, নিয়োগ ও টেন্ডার-বাণিজ্য ঘিরে অর্থ লেনদেন এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিজ্ঞানীর দাবি, ড. রফিক মহাপরিচালকের দায়িত্ব পাওয়ার পর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বিপুল অর্থের বিনিময়ে হয়েছে এবং রফিক-মুকুল গং এসব নিয়ন্ত্রণ করছে।
ব্রি’র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি পক্ষ জানায়, ড. মুকুলের নির্দেশে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ও অবৈধ পদোন্নতিপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী পরিচালক কাওসার আহমেদ বিভিন্ন নোট উপস্থাপনের সঙ্গে জড়িত।
অতি সম্প্রতি মো. সেলিম নামের ব্রি’র একজন স্টোর অফিসারকে বদলির জন্য নথি উপস্থাপন করা হয়। তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে বিএনপি করার অপরাধে বৈষম্যের শিকার হয়ে একাধিকবার বদলি হয়েছেন এবং পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। নথিতে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশে নথি উপস্থাপন করা হলো মর্মে উল্লেখ করেন। কিন্তু ড. রফিক মহাপরিচালক হিসেবে এই ধরনের নির্দেশ দেননি বলে ব্রি’র বিজ্ঞানী সমিতির সভাপতিকে অবহিত করেন।
মোবাইলে বিজ্ঞানী সমিতির সভাপতি ড. মো. ইব্রাহিম এই প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে দাবি করা হয়েছে। অনুরূপ আরেকটি ঘটনায় একজন কর্মচারীর অভিযোগে একজন ষষ্ঠ গ্রেড কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলবের নথি পরিচালক প্রশাসন পর্যন্ত চলে যায়। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, মহাপরিচালক কিংবা পরিচালক কেউই এ ধরনের নোটের সূচনা করতে বলেননি।
ব্রিতে দীর্ঘদিন মহাপরিচালকের পদ শূন্য থাকার প্রেক্ষিতে বিগত ৩ মে ব্রি’র জ্যেষ্ঠ সিএসও এবং প্রথিতযশা মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ড. আমিনুল ইসলামকে মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ড. আমিনুল ইসলামকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে সরকারি ঐ আদেশ প্রতিহত করার জন্য বিগত ৩ ও ৪ মে ব্রি’র কথিত নব্য হাইব্রিড জাতীয়তাবাদী দুর্নীতিপ্রবণ একটি গ্রুপ চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। এমনকি ব্রি’র সকল গেইটে তালা মেরে বহিরাগত সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে পুলিশের সাথেও ধস্তাধস্তি করে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
এই পর্যায়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ও সুযোগসন্ধানী সচিব রফিক-ই-মোহামেদ তড়িঘড়ি করে উক্ত আদেশ বাতিল করেন এবং লোকদেখানো তদন্ত কমিটি গঠন করেন। মজার বিষয় হচ্ছে, ৩ ও ৪ মে-এর নৈরাজ্যের মাস্টারমাইন্ড ও চরম দুর্নীতিবাজ ড. রফিকুল ইসলামকে মহাপরিচালকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। অপরদিকে তদন্ত কার্যক্রম এখন হিমাগারে।
ড. রফিকুল ইসলাম মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথে ব্রি’র সন্ত্রাসী হাইব্রিড জাতীয়তাবাদী ড. হাবিবুর রহমান মুকুল হয়ে পড়েন ভার্চুয়াল ডিজি। ব্রি’র সকল পদোন্নতি, বদলি ও টেন্ডার-বাণিজ্যের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা এখন মুকুল—এমন অভিযোগ রয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে গডফাদারে পরিণত হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মুকুলের একটি প্রিন্টার ক্রয়ের আবেদনে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করায় পরিচালক (প্রশাসন)-কে টেলিফোনে হুমকি প্রদর্শন করা হয়—এমন অভিযোগ রয়েছে। বলা হয়, এসব করলে তিনি ব্রিতে থাকতে পারবেন না। এমনকি তার রুমে একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির নিয়মিত শ্রমিককে নিয়ে এসে পরিচালক (প্রশাসন)-কে প্রকাশ্যে ব্রি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ঐ শ্রমিক অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণভাবে পরিচালক (প্রশাসন)-কে স্মরণ করিয়ে দেন, “ব্রি এখন মুকুল স্যারের কথায় চলে, আপনিও স্যারের পরামর্শে চলবেন।” এ বিষয়ে পরিচালক প্রশাসনকে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি এর সত্যতা নিশ্চিত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে রিপোর্টারকেই তথ্য দেয়ার জন্য ডঃ মোঃ গোলাম কিবরিয়া ভূঁইয়া এবং ডঃ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান এর নেতৃত্বে অন্যান্য কিছু কথিত বিজ্ঞানী অপেক্ষা কর্মচারী পরিচালক প্রশাসনকে হুমকি এবং প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে বলে জানা যায়।
ড. রফিক মহাপরিচালক নিয়োগের একমাসের মধ্যে বিগত ১৪ আগস্ট ২০২৬ ব্রি’র ৯৩তম বোর্ড অব ম্যানেজমেন্ট সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় ১২ জন এসএসওকে পিএসও পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। যেখানে হাবিবুর রহমান মুকুলও তার বিতর্কিত পদোন্নতি নিশ্চিত করেন।
একজন জ্যেষ্ঠ মহিলা বিজ্ঞানীকে বদলির ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে পদোন্নতি না নেওয়ার জন্য লিখিত দিতে মুকুল ও তার অনুসারীরা বাধ্য করেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। জিকিউএন বিভাগের ড. তাপস কুমার সরকারকে পিএসও পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে, অথচ তার এসএসও পদের নিয়োগই বৈধ ছিল না—এমন অভিযোগ রয়েছে। সে কারণে তার নিয়োগের পর অতিরিক্ত বয়সের কারণে তার নিয়োগ বাতিলের জন্য ১ম সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা হয়েছিল, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
এমনকি সেই ফ্যাসিস্ট সময়ে তাকে ব্রি কর্তৃপক্ষ বিনা ভোটে ব্রি বিজ্ঞানী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বানানো হয়। জনশ্রুতি আছে, এর মাধ্যমে ব্রি’র মহাপরিচালক নিয়োগে ড. রফিকুল ইসলামের পক্ষে অর্থায়নের পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া প্রাক্তন ফ্যাসিস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের ভাগ্নেকে উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের পিএসও পদে অর্থের বিনিময়ে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে—এমন অভিযোগ রয়েছে।
আওয়ামী আমলে দোর্দণ্ড প্রতাপে ফ্যাসিস্ট ড. শাহজাহান কবীরের সকল অপকর্মের সহযোগী আনিসুজ্জামান লিটন, রেজোয়ান ভূইয়া, রত্না রানী মজুমদারকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে এবং বিজ্ঞানী সমিতির নির্বাচনে হাবিবুর রহমান মুকুলকে ভোট দেওয়ার বিনিময়ে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে—মর্মে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ব্রি প্রবিধানমালায় পদের কিংবা নিয়োগযোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ফার্ম সুপারিন্টেন্ডেন্ট ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক পদে কৃষি মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের তদন্ত কমিটিতে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কাওছার আহমেদকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ রয়েছে।
অথচ এই কাওছার আহমেদ বিগত ফ্যাসিস্ট সময়ে নিয়মিত উপ-পরিচালককে অকার্যকর করে ব্রি’র সকল নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রকিউরমেন্ট ও টেন্ডারে দুর্নীতিতে সহযোগিতার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ড. মো. ইব্রাহীম সিএসওকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে বিগত ১৫ বছরের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
কাওছার এখন ডিজির অনৈতিক টাকা সংগ্রহের মূল হাতিয়ার—এমন অভিযোগ রয়েছে। ব্রি প্রবিধানমালায় তার পদ না থাকা সত্ত্বেও ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি পদোন্নতি বাগিয়ে নেন বলে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। তিনি অন্তত ৪ থেকে ৫টি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন নামে-বেনামে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে—এমন অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে বিগত ১৫ বছরে দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ফটোগ্রাফার মাসুম রানাকেও পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এই মাসুম রানা আওয়ামী বিনা ভোটের নির্বাচনে ব্যালট পেপারে সিল মারা সহ সকল অপকর্মে ফ্যাসিস্ট মহাপরিচালককে সহযোগিতা করেছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ড. রফিকুল ইসলামকে মহাপরিচালক বানানোর মিশনে এরা অর্থদাতা ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ড. রফিক দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথে ড. মুকুলের অনুসারীরা ব্রি হিসাব বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. রুহুল আমিনকে অফিস চলাকালীন অফিস চত্বরে ফেনীর নিজাম হাজারীর আত্মীয় ও ড. রফিকের সোনাগাজীর দুর্নীতির সহযোগী আনেয়ারুল আজিমের নেতৃত্বে লাঞ্ছিত করে—এমন অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তার লিখিত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অদ্যাবধি কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
ড. রফিকুল ইসলাম মহাপরিচালক হওয়ার অব্যবহিত পরেই কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন অতিরিক্ত সচিব ড. আব্দুর রৌফ কমিশন কর্তৃক দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ও গোড়া আওয়ামী লীগার তারেক সালাউদ্দিন সি: স: পরিচালককে ব্রি হিসাব বিভাগের প্রধান করে বদলি করে নিয়ে আসা হয়েছে। জনশ্রুতি আছে, ড. রফিক-মুকুল গংয়ের অবৈধ লেনদেনের প্রবাহ নির্বিঘ্ন করার জন্যই এই পদায়ন।
বিগত ফ্যাসিস্ট সময়ের সবচেয়ে বিতর্কিত বিজ্ঞানী, যাকে কিছুদিন উপ-পরিচালক (প্রশাসন)-এর দায়িত্বেও রাখা হয়েছিল, সেই ড. সিরাজুল ইসলামকে আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে সদর দপ্তরে বদলি করে আনা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
অথচ এই ড. সিরাজ বিগত আওয়ামী আমলের নির্বাচনে প্রকাশ্যে আওয়ামী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করেছেন। ২০১৪, ১৮ ও ২৪-এর সকল নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জন্য ব্রি কেন্দ্রে ভোট ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করেছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। তিনি বারবার ২৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। মো. সিরাজুল ইসলাম স্মরণিকা প্রকাশনা উপকমিটি-২০২০-এর আহ্বায়কের দায়িত্বেও ছিলেন।
এছাড়া তিনি বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড ছিলেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ জন আত্মীয়কে ব্রিতে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি সকল কেনাকাটা এবং খাদ্য কমিটির দায়িত্বে থাকতেন।
মো. সিরাজুল ইসলাম, সিএসও এবং প্রধান কে, ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয় খাগড়াছড়ি থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ড. হাবিবুর রহমান মুকুলকে বদলি করিয়ে সদর দপ্তরে নিয়ে আসেন ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে—এটি এখন ওপেন সিক্রেট বলে দাবি করা হচ্ছে।
সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে চারিত্রিক স্খলনেরও অভিযোগ রয়েছে। এই সকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগস্ট বিপ্লবের পর তাকে ব্রি সদর দপ্তর থেকে বদলি করা হয়েছিল। ১৭ বছরে তার দলবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্ত হলে তার চাকরিচ্যুতি অনিবার্য—এমন মন্তব্য করেছেন অভিযোগকারীরা। সেখানে তাকে বদলীর মাধ্যমে পুরস্কৃত করা হলো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ড. রফিক মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের পর নুরজাহান নামে একজন বিতর্কিত মহিলা শ্রমিককে বদলি করে আনা হয়, যার বিরুদ্ধে বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে ব্রি’র একজন বিএনপি সমর্থক কর্মচারীর স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ড. রফিক সর্বশেষ ব্রি’র পরিচালক গবেষণার শূন্যপদ পূরণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে বিশেষ সুপারিশ করে ড. মো. ইফতেখারুদ্দৌলার নাম প্রেরণ করেছেন। অথচ এই ইফতেখারুদ্দৌলা বিগত সময়ে বিতর্কিত মহাপরিচালক ড. শাহজাহানের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন এবং স্থানীয় আওয়ামী নির্বাচনের অর্থদাতা ছিলেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। তিনি সরাসরি সংসদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হলে ব্রির অনেক বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রকাশ্য দলবাজি, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে চাকরিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন।
এদিকে ব্রিতে একই ‘আধুনিক অফিস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রকিউরমেন্ট’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দুইবার উদ্বোধন করা হচ্ছে। এতে সরকারি অর্থ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মঘণ্টা এবং সরকারি সম্পদের অপচয় নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অফিস চলাকালীন সময়ে ব্রির বর্তমান মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলামকে ঘিরে শ্রমিক, কর্মচারী, কয়েকজন বিজ্ঞানী এবং কথিত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশাসনিক দপ্তরে বৈঠকের একটি ছবিও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়মিত দায়িত্বের বাইরে এ ধরনের লোকজনকে নিয়ে অফিস চলাকালীন প্রশাসনিক দপ্তরে বৈঠক করার ফলে দাপ্তরিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং কর্মকর্তা-বিজ্ঞানীদের স্বাভাবিক কর্মঘণ্টা ও কাজের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একটি জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দপ্তরে কারা, কী উদ্দেশ্যে এবং কোন অনুমতিতে এ ধরনের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাছাড়া বর্তমান ডিজি দায়িত্বে গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে এবং নানান কাজের অজুহাতে সপ্তাহের প্রায় প্রতিটি দিন তিনি মন্ত্রণালয়ে পরে থাকেন-এতে করে নিয়মিত কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং গবেষণা কাজ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
ড. রফিক মহাপরিচালকের দায়িত্ব পাওয়ার পর সবকিছুই বিপুল অর্থের বিনিময়ে হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজ্ঞানীরা দাবি করেন এবং রফিক-মুকুল গং এই দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করছে বলে মত প্রকাশ করেন।
পক্ষান্তরে যারা ৩ ও ৪ মে বর্তমান সরকারের আদেশ বাস্তবায়নের পক্ষ অবলম্বন করেছিল, তাদেরকে মুকুল গং অব্যাহত হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ব্রি’র প্রাক্তন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান (সিএসও) ড. মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী ড. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালীন তাকে প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক পদে পদায়ন অবৈধ মর্মে উল্লেখ করে জাস্টিস ডিমান্ড নোটিশ প্রদান করেন।
তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ব্রিতে বিগত ১৭ বছরের সীমাহীন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির ঘটনা রয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে যারা মহাপরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছে তারাও সেই সময়ের সুবিধাভোগী। যার ফলে সেই সময়ে ঘটে যাওয়া ব্যাপক দুর্নীতির কোনো তদন্ত ও প্রতিকার হয়নি।
বরং সেই সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ এখন মহাপরিচালক নিয়োগসহ বিভিন্ন ব্যক্তির আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার প্রকল্পে ব্যবহার হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট দলবাজ ও দুর্নীতিবাজরা আবার স্বমূর্তিতে আবির্ভূত হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
প্রতিকার বিষয়ে তার মন্তব্য হচ্ছে, “ব্রি’র বিতর্কিত নির্বাহী ও অভিযুক্ত সিন্ডিকেট হোতাদের সরিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিগত সময় থেকে এ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোর একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং অপ্রিয় হলেও সেমতে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তার বৃহত্তর স্বার্থে এই অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ অতীব জরুরি।”