
নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্রির প্রাক্তন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান (সিএসও) ড. মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী ড. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালীন তাঁকে প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক পদে পদায়ন অবৈধ—এমন দাবি তুলে ‘জাস্টিস ডিমান্ড’ নোটিশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ড. মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী বলেন, ব্রিতে গত ১৭ বছরে সীমাহীন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে।
তাঁর দাবি, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে যারা মহাপরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন, তাঁরাও আগের সময়ের সুবিধাভোগী। ফলে ওই সময়ে ঘটে যাওয়া ব্যাপক দুর্নীতির কোনো কার্যকর তদন্ত ও প্রতিকার হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ এখন মহাপরিচালক নিয়োগসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রভাবশালী করে তোলার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে অতীতের রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আবারও প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন।
প্রতিকার বিষয়ে তিনি বলেন, ব্রির বিতর্কিত নির্বাহী ও অভিযুক্ত সিন্ডিকেট-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিগত সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোর একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি বলেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তার বৃহত্তর স্বার্থে এ অবস্থা চলতে দেওয়া উচিত নয় এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
অন্যদিকে, ব্রির বর্তমান প্রশাসনকে ঘিরে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—মহাপরিচালক নিয়োগ, মে মাসের ঘটনা, পদোন্নতি, বদলি, টেন্ডার, প্রকিউরমেন্ট, নিয়োগ, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, আর্থিক লেনদেন, প্রশাসনিক নথি উপস্থাপন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি এবং বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে।
তবে যেসব ব্যক্তি ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য এবং অভিযোগগুলোর সমর্থনে সংশ্লিষ্ট নথি, আদালতের রেকর্ড, তদন্ত প্রতিবেদন, অফিস আদেশ ও আর্থিক নথি প্রকাশ্যে এলে প্রতিবেদনটি আরও পূর্ণাঙ্গ হবে।
ব্রির মতো দেশের গুরুত্বপূর্ণ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে নিয়মনীতি এবং গবেষণা কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।