
বিশেষ প্রতিনিধি:
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রাতে আঁধারে শত কোটি টাকার অবৈধ বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মী এখানে এক হয়ে ‘ভাই ভাই’ জোটে এই মহোৎসবে মেতে উঠেছে।
সন্ত্রাসী চক্র ও মূল হোতারা:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বালু উত্তোলনের মূল নেতৃত্বে রয়েছে বাঁশগাড়ীর আলোচিত যুবলীগ নেতা হারুন এবং চরমধুয়া ইউনিয়নের শ্রমিক লীগ নেতা আমানুল্লাহ। এদের সাথে যুক্ত হয়েছেন মির্জারচর ইউনিয়নের বিএনপি পরিচয় বহনকারী শাজাহান সোহাগ এবং চরমধুয়া ইউনিয়নের যুবদল নেতা কামরুল। এছাড়া মির্জারচর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হাসান আলী ও নয়ন শেখ সার্বিক নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় রয়েছে।
কার্যক্রম পরিচালনার ধরণ ও জড়িতদের ভূমিকা:
অভিযোগে প্রকাশ, রাতের আঁধারে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ও ফাঁকা গুলির মহড়া দিয়ে সাধারণ মানুষকে তটস্থ রেখে এই সিন্ডিকেট নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। পুরো কার্যক্রমটি সুসংগঠিতভাবে পরিচালনায় রয়েছে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি:
কামরুল: চরমধুয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা।
মাসুম: মানিকনগর এলাকার ইটভাটা মালিক।
রিপন মেম্বার: মানিকনগর এলাকার স্থানীয় প্রতিনিধি।
মামুন ও পলাশ: বালু উত্তোলনের জন্য ড্রেজার এবং চলাচলের জন্য স্পিডবোট সংগ্রহকারী।
আমানত খাঁ: নিলক্ষা এলাকার সমন্বয়কারী।
এমপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের চক্রান্ত:
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়পুরা উপজেলার সম্মানিত সংসদ সদস্য জননেতা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফউদ্দিন বকুল একাধিকবার অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দিলেও সেই নিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রভাবশালী এই গোষ্ঠী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষ করে আওয়ামী লীগের ভেতর লুকিয়ে থাকা একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল এমপি সাহেবের ব্যাপক জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁর নাম ও ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য গভীর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। একদিকে আওয়ামী লীগের কিছু প্রভাবশালী নেতা নিজেদের কর্তৃত্ব জাহির করতে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন, অন্যদিকে বিএনপির কতিপয় অসাধু নেতাকর্মী তাদের সাথে হাত মিলিয়ে সুবিধা হাসিল করছেন।
জনমনে আতঙ্ক ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি:
অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলগুলো তীব্র ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ আগ্নেয়াস্ত্রধারী এই বাহিনীর ভয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদ করতে পারছেন না। অবিলম্বে ড্রেজার জব্দসহ চিহ্নিত এই সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রায়পুরার সর্বস্তরের জনগণ।