রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি:
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভেলুয়ারচর গ্রামে এক প্রবাসীর সাজানো-গোছানো সুখের সংসার ভাঙনের মুখে। প্রবাসী স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়া, বেপরোয়া চলাফেরা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চরম হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ওই দম্পতির দুটি অবুঝ শিশু সন্তান।
ভুক্তভোগী পরিবারের পরিচয়:
ভুক্তভোগী প্রবাসী মোহাম্মদ ইব্রাহীম মিয়া নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভেলুয়ারচর গ্রামের শহীদুল্লাহ ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন। তার স্ত্রী নুরমহল আক্তার একই গ্রামের মজিবর মিয়ার মেয়ে।
যা অভিযোগ করছেন প্রবাসী স্বামী:
ভুক্তভোগী ইব্রাহীম মিয়ার সাথে কথা বলে ও পাঠানো ভিডিও বার্তা থেকে জানা যায়, প্রবাসে থাকার সুযোগে তার স্ত্রী নুরমহল আক্তার সম্প্রতি বেপরোয়া জীবনযাপন শুরু করেছেন।
তার অভিযোগগুলো হলো-
১. সংসারের প্রতি উদাসীন হয়ে টিকটকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় ব্যয়।
২. বিভিন্ন ছেলের সাথে মোবাইল ফোনে নিয়মিত কথোপকথন ও গোপনে সাক্ষাৎ করা।
৩. স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ইচ্ছেমতো চলাফেরা করা।
ইব্রাহীম মিয়া জানান, তিনি দেশ-বিদেশ থেকে বহুবার স্ত্রীকে বুঝিয়ে সু-পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তিনি কারো কথাই কর্ণপাত করছেন না।
শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে প্রশ্রয়ের অভিযোগ:
এই ঘটনার জন্য প্রবাসী ইব্রাহীম তার শ্বশুর মজিবর মিয়া ও শাশুড়ি সিরিজ বেগমকে দায়ী করছেন। তার ভাষ্যমতে, "আমি বারবার আমার শ্বশুর-শাশুড়িকে জানিয়েছি। তারা যদি তাদের মেয়েকে শুরু থেকেই শাসন করতো, তাহলে আজ আমার সংসারটা এভাবে ধ্বংসের মুখে পড়তো না। তারা মেয়েকে শাসন না করে উল্টো প্রশ্রয় দিচ্ছে।"
সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা:
বাবা প্রবাসে, মা বেপরোয়া জীবনে। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের দুটি শিশু সন্তান। স্থানীয়দের মতে, সন্তানরা ঠিকমতো মায়ের আদর-যত্ন পাচ্ছে না এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। সুন্দর একটি পরিবার অচিরেই ভেঙে যাবে এমন শঙ্কায় রয়েছে এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী ইব্রাহীম মিয়া তার স্ত্রীকে পরকীয়ার পথ থেকে ফিরিয়ে এনে সন্তানদের কথা চিন্তা করে সংসার রক্ষা করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গৃহবধূ নুরমহল আক্তার, তার পিতা মজিবর মিয়া ও মাতা সিরিজ বেগমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।