নিজস্ব প্রতিবেদক
জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে কুষ্টিয়ার গ্রামীণ জনপদে সহিংসতার ধারাবাহিকতায় এবার কুমারখালী উপজেলায় বাড়িতে ঢুকে এক দম্পতিকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। ভুক্তভোগী মুতাই শেখ ও কমেলা খাতুনের ভাষ্যমতে, মাঠ থেকে বাড়ি ফেরার পর দুলাল শেখের নেতৃত্বে ৭-8 জনের একটি দল তাদের বাড়িতে চড়াও হয় এবং কোনো কারণ ছাড়াই অকথ্য ভাষায় বকাবকি শুরু করে। মুতাই শেখ এর প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা হাসুয়া, বাটাম ও বাঁশ দিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয় এবং বেধড়ক মারধর করে। হামলায় কমেলা খাতুনের পিঠ ও কোমরে মারাত্মক আঘাত লাগে এবং চুল ধরে টানাটানি করে তার জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা হলে তিনি মাটিতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। পাশাপাশি পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, হামলাকারীরা ওই বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং উপস্থিত দুই গৃহবধূর শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়, যেসময় তাদের শ্বশুর বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন দুলাল শেখ, জয় শেখ, রফিকুল শেখ, আলিফ, মঞ্জু শেখ, হেলাল শেখ, রুমা খাতুন ও মিসমা। ঘটনার পেছনে মূল অনুঘটক হিসেবে বাড়ির ওপর মেহগনি গাছের ডালের ছায়া পড়া এবং দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত দুলাল শেখ ও মঞ্জু শেখের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন; তাদের মতে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পূর্বে তাদের ভাস্তিকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় মুতাই পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং তারা জেলেও ছিলেন। এছাড়া তারা জানান যে, বিষয়টি নিয়ে পূর্বে সালিশ হলেও মুতাই পক্ষ সালিশের সিদ্ধান্ত বা রায় মানেনি। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন, যেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জানান যে, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।